
চট্টগ্রাম, ২০ সেপ্টেম্বর (CTG Mail): চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে অনিয়ম ও খাদ্য নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৯ প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই অভিযানে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন কার্যালয়ের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফা। বিষয়টি জানান মেট্রোপলিটন নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম।
লালখানবাজারের হাইওয়ে সুইটস অ্যান্ড বেকারির কারখানায় অভিযানে মানহীন ঘি ব্যবহার করে মিষ্টি প্রস্তুত, মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়া টোস্ট-বিস্কুট বিক্রি, স্যাঁতসেঁতে ফ্লোর এবং অপরিচ্ছন্ন ছানা প্রক্রিয়াকরণের পাত্রের বিষয়টি ধরা পড়ে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া কারখানার কিছু অংশে তেলাপোকার বিচরণও পাওয়া যায়। এসব অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ এলাকায় জসিম মশলা মিলে অভিযান চালিয়ে মশলায় কাঠের গুঁড়া মেশানো, অননুমোদিত রং ব্যবহার এবং নোংরা ও পচা মরিচ দিয়ে মশলা তৈরির অভিযোগ পাওয়া যায়।
এ ছাড়া সরকারি কাজে সহযোগিতা না করার অভিযোগও রয়েছে। এসব ঘটনায় মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
চকবাজারের বালি আর্কেড ফুড কোর্টের বিভিন্ন খাদ্য প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে একাধিক অনিয়ম শনাক্ত করে কর্তৃপক্ষ। এসবের মধ্যে ছিল পচা আলু, পচা মাংস, পচা সবজি ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য ব্যবহার বা সংরক্ষণ, পোড়া তেল ব্যবহার, কাঁচা ও রান্না করা খাবার একই ফ্রিজে রাখা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণ।
অভিযানে KFC-কে পচা আলু ও পচা মাংসজাত উপাদান ব্যবহারের অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা, ফুচকা খাদ্যক-কে পচা আলু ও পচা আম ব্যবহারের অভিযোগে ৩০ হাজার টাকা এবং স্ট্রিট ইটসকে পোড়া তেল, খবরের কাগজে খাবার পরিবেশনসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
গ্রীল মাস্টার অ্যান্ড পাপাচিনোকে ৫০ হাজার, লাজজাতকে ৫০ হাজার, দিল্লি দরবার অ্যান্ড সালাদ লাভার্সকে ১ লাখ এবং চিলিসকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে এলিগ্যান্টকে ৫০ হাজার টাকা, দ্যা বোন চাইনা-কে ২৫ হাজার, ওয়াফেল কিংকে ১০ হাজার, নাইন ক্যান্ডেল ২.০-কে ২৫ হাজার, হটডগ অ্যান্ড কোং-কে ৫০ হাজার এবং দ্যা ওয়াফেলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া টমিয়ামকে ১০ হাজার, দ্যা চিকেন বক্সকে ২৫ হাজার, ফুচকাওয়ালা অ্যান্ড জুসবারকে ৫০ হাজার এবং দ্যা মাঞ্চগাইকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মেয়াদোত্তীর্ণ বা পচা খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি, কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে সংরক্ষণ এবং নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের মতো বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা ও মেট্রোপলিটন কার্যালয়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।
এসআরবি-৭, সিএমপি ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সদস্যরাও অভিযানে সহায়তা করেন। অভিযানে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
খাদ্য প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।