
চট্টগ্রাম, ১৮ জুলাই (সিটিজি মেইল): দুর্যোগ ও প্রাকৃতিক দুর্বিপাকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি ও খামারিদের পুনর্বাসনে সরকার ধারাবাহিকভাবে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি ও খামারিদের মধ্যে ধানবীজ, কৃষি উপকরণ, গো-খাদ্য বিতরণ এবং গবাদিপশুর টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক দুর্যোগে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা দিতে সরকার বিভিন্ন পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, ‘কৃষক, মৎস্যচাষি ও খামারিদের উৎপাদনে ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।’
অনুষ্ঠানের আগে দোহাজারীর একটি বীজতলায় নিজ হাতে ধানবীজ বপন করেন কৃষিমন্ত্রী। পরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে উন্নত জাতের ধানবীজ ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করেন।
একই সঙ্গে মৎস্যচাষিদের জন্য পুকুর পুনর্বাসনের উপকরণ এবং খামারিদের মধ্যে গো-খাদ্য বিতরণ করা হয়।
এদিন গবাদিপশুকে ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ (এফএমডি) এবং পিপিআর রোগ প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচিরও উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, টিকাদান কার্যক্রমের মাধ্যমে গবাদিপশুর রোগ সংক্রমণ কমানো এবং খামারিদের আর্থিক ক্ষতি হ্রাসে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠান শেষে কৃষিমন্ত্রী দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে খোঁজ নেন।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশনাও দেন।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।