
CTGMAIL নিউজ ডেস্ক: ১৪ জুলাই ২০২৬,
চট্টগ্রামসাম্প্রতিক টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে মাঠপর্যায়ে কারণ অনুসন্ধান শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। জলাবদ্ধতার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
মঙ্গলবার নগরীর আগ্রাবাদ চৌমুহনী এলাকায় অবস্থিত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয় এবং আশপাশের জলাবদ্ধতা-প্রবণ স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন মেয়র। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং জলাবদ্ধতার কারণগুলো নিয়ে আলোচনা করেন।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গত কয়েক দিনের রেকর্ড বৃষ্টিপাতে নগরীর যেসব এলাকায় পানি জমেছে, সেসব স্থানে ধারাবাহিকভাবে পরিদর্শন চালানো হচ্ছে। কোথায় কী কারণে পানি আটকে যাচ্ছে এবং কোন অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, তা নির্ণয়ের কাজ চলছে।
তার ভাষ্য, শুধু অস্থায়ীভাবে পানি অপসারণ নয়, বরং জলাবদ্ধতার মূল কারণ শনাক্ত করে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করাই চসিকের প্রধান লক্ষ্য।
পরিদর্শনের সময় মেয়র জানান, আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকা এবং ২৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে পানি জমার কারণ বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিভিন্ন খাল, নালা ও ছড়ায় বর্জ্য জমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারছে না। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
পরিদর্শনের সময় মেয়র আরও বলেন, আশপাশের বিভিন্ন গাড়ির শোরুম, টিভি-ফ্রিজসহ বিভিন্ন পণ্যের বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ফোম শিট, ককশিট, পলিথিন ও অন্যান্য প্যাকেজিং বর্জ্য যথেচ্ছভাবে ড্রেন ও নালায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে।
এসব বর্জ্যের কারণে পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই নগরজুড়ে দুর্ভোগ তৈরি হচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা নিয়ম না মেনে বর্জ্য ফেলবেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে জরিমানা কিংবা কারাদণ্ডসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মেয়র জানান, দেওয়ানহাট-আগ্রাবাদ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে নাসির খাল ছড়া ও লালমিয়া খাল ছড়াসহ গুরুত্বপূর্ণ জলপ্রবাহ দ্রুত পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব খাল ও ছড়ার স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
এ সময় চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানকে দ্রুত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন মেয়র।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি সবাইকে ড্রেন, নালা কিংবা খালে কোনো ধরনের বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানান এবং পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরিদর্শনকালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা, সাবেক কাউন্সিলর নিয়াজ মোহাম্মদ খান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।