
সিটিজি মেইল প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন, যিনি ডেভিড ইমন নামে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরেই হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র-সংশ্লিষ্ট নানা অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। অবশেষে বুধবার ভোরে যশোরের নড়াইল-যশোর সড়কের ঝুমঝুম এলাকা থেকে তিন সহযোগীসহ তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন ইমন। গ্রেপ্তারের সময় তিনি একটি প্রাইভেট কারে ছিলেন। কর্মকর্তারা জানান, আগের ছবিগুলোতে তার গোঁফ থাকলেও গ্রেপ্তারের সময় তিনি গোঁফ কেটে ফেলেছিলেন।
ডেভিড ইমনের প্রকৃত নাম মোবারক হোসেন ইমন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নে। তার বাবার নাম মোহাম্মদ মুসা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, একসময় রাউজান এলাকার বালুমহালকেন্দ্রিক অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন ইমন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রায়হানের মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই অপরাধ জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশে পলাতক চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। বড় সাজ্জাদের নির্দেশনায় পরিচালিত একটি গ্রুপের কার্যক্রমে ইমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গত এক বছরে চট্টগ্রামের একাধিক আলোচিত অপরাধের ঘটনায় ডেভিড ইমনের নাম উঠে আসে। এর মধ্যে রয়েছে—
এছাড়া গত ১৩ জুলাই বাকলিয়া এক্সেস রোডে একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং পরে ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায়ও তার নাম আসে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, ডেভিড ইমন অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করতেন এবং বিভিন্ন সময় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হলেও তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক অভিযোগ থাকলেও দীর্ঘদিন তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।
সর্বশেষ যশোরে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত এই সন্ত্রাসীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলাগুলোর তদন্তে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে।